পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটতে পারে—এমন ইঙ্গিতেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে দেখা গেছে শক্তিশালী উত্থান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় “বড় অগ্রগতি” হয়েছে বলে মন্তব্য করার পরপরই বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে, যা জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড Brent crude-এর দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে West Texas Intermediate (WTI) ৯.২ শতাংশ কমে ৯২.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের দামের এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। সাধারণত যুদ্ধ বা অস্থিরতার সময় তেলের দাম বেড়ে যায়, কারণ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু যখন শান্তির সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন বাজারে দাম কমে যায়।
এদিকে শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচক S&P 500, Dow Jones Industrial Average এবং Nasdaq Composite—তিনটিই উর্ধ্বমুখী ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
ইউরোপীয় বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। লন্ডনের FTSE 100, জার্মানির DAX এবং প্যারিসের CAC 40—সবগুলো সূচকই ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এশিয়ার বাজারেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI সূচক ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে Samsung-এর শেয়ারের বড় উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা কোম্পানিটির বাজারমূল্যকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে গেছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ডাচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ING জানিয়েছে, স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) নিয়ে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম Axios বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে Reuters জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে বিশ্বাস করছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক