সীমান্ত নিরাপত্তায় কুমির-সাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা ভারতের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সীমান্ত নিরাপত্তায় কুমির-সাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা ভারতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
সীমান্ত নিরাপত্তায় কুমির-সাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা ভারতের ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ও ব্যতিক্রমী একটি কৌশল বিবেচনা করছে ভারত। সীমান্তবর্তী নদীপথ ও জলাভূমি এলাকায় কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ ব্যবহার করে নজরদারি বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Border Security Force (বিএসএফ) এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। প্রায় ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ India-Bangladesh border-এর বড় একটি অংশ নদী ও জলাভূমি দ্বারা বেষ্টিত, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। এসব এলাকাকে আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করতে বিকল্প উপায় হিসেবে সরীসৃপ ব্যবহারের ধারণা সামনে এসেছে।

এই উদ্যোগের পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৬ মার্চ বিএসএফ-এর ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টরের কাছে পাঠানো এক বার্তায় নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় অপারেশনাল প্রয়োজনে কুমির বা সাপ মোতায়েন করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

সীমান্তের এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে স্থায়ী বেড়া দেওয়া যায় না। প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও বেড়াহীন, যার মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি অঞ্চল। এসব জায়গায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকটের মুখোমুখি। প্রায় ২.৬৫ লাখ সদস্যের বাহিনীর একটি বড় অংশ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় সীমান্ত পাহারায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার কারণে পূর্ণ দক্ষতায় কাজ করতে পারছে না বলেও জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক উপাদানকে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিকল্পনার সঙ্গে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আলোচিত প্রস্তাবের মিল পাওয়া গেছে। Donald Trump একসময় মেক্সিকো সীমান্তে নদীপথে কুমির ব্যবহারের ধারণা তুলে ধরেছিলেন, যদিও সেটি পরে বাস্তবায়ন হয়নি।

ভারত সরকার একই সঙ্গে সীমান্ত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করছে। তবে প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের এই নতুন চিন্তা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, কুমির ও সাপ মোতায়েনের এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ড্রোন হামলা ঠেকাতে গিয়ে ফুরোচ্ছে ফ্রান্সের ‘মিকা’ মজুদ

ড্রোন হামলা ঠেকাতে গিয়ে ফুরোচ্ছে ফ্রান্সের ‘মিকা’ মজুদ