পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে বোম্বাই জাতের মরিচ চাষ এখন কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। লাভজনক হওয়ায় জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার হাজারো পরিবার এই মরিচ চাষে যুক্ত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে এই মরিচ চাষ হলেও এখন তা বাণিজ্যিক আকার নিয়েছে। বর্তমানে এটি শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, বরং চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আন্তর্জাতিক মসলার বাজারেও জায়গা করে নিয়েছে।
নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড় ও বৈঠাকাটা এলাকায় ব্যাপকভাবে এই চাষ হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বোম্বাই মরিচের ফলন ভালো, ঝাল বেশি এবং ঘ্রাণ আকর্ষণীয় হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে।
একটি গাছে সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ৪০০ থেকে ১০০০টি মরিচ উৎপাদন সম্ভব। ফলে অল্প জমিতেই ভালো আয় হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
আটঘর-কুড়িয়ানা গ্রামের কৃষক রঞ্জিত হালদার জানান, তাদের উৎপাদিত মরিচ এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করছেন।
অন্যদিকে কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, উন্নত বীজ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মরিচের আকার ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, যা আয় আরও বাড়াবে।
নারী কৃষকরাও এই চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। সবিতা রানীর মতো অনেক নারী পরিবারের সঙ্গে কাজ করে এই আয়ের মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছেন এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন।
সূত্র অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে পিরোজপুর অঞ্চল থেকে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামের উঠান থেকে শুরু হওয়া এই বোম্বাই মরিচ এখন পিরোজপুরের কৃষি অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি এনে দিচ্ছে।