চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, আখতার হোসেন, খালেদ মাহমুদ শ্যামল, সুলতানা জেসমিন এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম।
চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ইউনান পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইউনান প্রদেশের সাধারণ সম্পাদক মি. ওয়াং নিং। তার সঙ্গে ছিলেন ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মি. ওয়াং শেনজিং, ভাইস গভর্নর মি. লিউ ইয়াং, এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বৈঠকে উভয় পক্ষই ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছায়। বিশেষভাবে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রোড কানেকটিভিটি উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যখাতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা প্রযুক্তি, হাসপাতাল উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বিনিময় সহজীকরণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। প্রতিনিধি দল মনে করে, ইউনান প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাংলাদেশের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশেষ করে রোড ক্যানেকটিভিটি আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে পরিবহন ও লজিস্টিকস সহযোগিতা বাড়ানো গেলে আঞ্চলিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
দুই পক্ষ ভবিষ্যতে নিয়মিত প্রতিনিধিদল বিনিময়ের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে চীন–দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক করিডর ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই বৈঠক বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক