মার্কিন তুলা ও Man-Made Fibre (MMF) ব্যবহার করে উৎপাদিত বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বিটিএমএ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ধারা ৫.৩ অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও MMF ব্যবহার করে তৈরি পোশাক উৎপাদন করে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, তাহলে সেই পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার কথা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও এ সুবিধা কার্যকর না হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, এই সুবিধা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে পারবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও MMF রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির সম্ভাব্য সুফল বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আগামী ২৪ ও ২৫ জুন বিটিএমএ’র সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR)-এর প্রতিনিধিদের পৃথক দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে ধারা ৫.৩ বাস্তবায়নের রূপরেখা, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।
বিটিএমএ মনে করে, মার্কিন তুলা ও MMF-ভিত্তিক একটি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প আরও শক্তিশালী হবে। এতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
সংগঠনটির মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু পোশাক খাতই নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও নতুন মাত্রা পাবে।
কসমিক ডেস্ক