দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পক্ষ থেকে আনিস আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এই আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন দাখিল করেন। উল্লেখ্য, ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করে দুদক।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুদকের অনুসন্ধানে আনিস আলমগীরের নামে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায়ই এবার দুদকের দুর্নীতি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক