যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) সৃষ্টি করা হতে পারে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বার্তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিলেও গত সপ্তাহে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধ এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ‘ব্ল্যাকআউট’ ঘটানোর হুমকি দিয়েছে। অপর এক কর্মকর্তা একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেসালিনেশন) কেন্দ্রকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে। মরুভূমিপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলো পানীয় জলের জন্য এসব স্থাপনার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এমন হামলা বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার জবাবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল ও জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর সংঘর্ষের মাত্রা আবারও বেড়ে যায় এবং বিশেষ করে কুয়েত ও বাহরাইনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামো নতুন করে বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক