দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে হামের টিকা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার নবাবগঞ্জে আয়োজিত হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে দেশের কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল জেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে। এরপর ধীরে ধীরে এই কার্যক্রম দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং ৩ মে থেকে জাতীয় পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি শুরু হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে হামের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই অবহেলা করার সুযোগ নেই এবং এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। এতে করে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এই বয়সসীমার শিশুদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে শিশুদের এই রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, টিকা সংরক্ষণ এবং বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, হামের টিকা কর্মসূচির এই বিস্তৃত পরিকল্পনা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি বড় অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।