ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না শক্তিশালী দেশগুলো The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না শক্তিশালী দেশগুলো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না শক্তিশালী দেশগুলো ছবির ক্যাপশন:

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা টানা ১৬ দিনে গড়িয়েছে। চলমান এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্বজুড়েও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে এর বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশের জাহাজ চলাচলও এই প্রণালি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তি মোতায়েনের কথা বলেছেন। তিনি সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি আশা করেন বিশ্বের কয়েকটি শক্তিশালী দেশ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

তিনি বিশেষভাবে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের মতে, এসব দেশ যদি সেখানে সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে, তাহলে ইরানের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আর হুমকির মুখে থাকবে না।

তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে এখন পর্যন্ত শক্তিশালী দেশগুলোর কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন দেশের সরকারি সূত্রগুলো বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে তাদের মিত্র এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

চীনও এই বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা এই সংঘাতের দ্রুত অবসান চায়। তবে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপানও এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের আহ্বানে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে-কে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় থাকতে পারে।

ফ্রান্স সরকারও ট্রাম্পের আহ্বানে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। শনিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই।

দক্ষিণ কোরিয়াও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগে শক্তিশালী দেশগুলোর অনাগ্রহ বা নীরবতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বশক্তিগুলো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের আহ্বানে তাৎক্ষণিক সাড়া না পাওয়াকে অনেকেই সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে ইউক্রেনে ক্ষয়ক্ষতি ও হত

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে ইউক্রেনে ক্ষয়ক্ষতি ও হত