আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর নতুন হুমকি এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ০৬ ডলার বা ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে পৌঁছেছে। একপর্যায়ে এই দাম ৯৫ দশমিক ৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে, যা গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং পাল্টা হিসেবে ইরানের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমনকি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই অঞ্চলে মাইন পাতা থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে, যা জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ফলে কিছু তেলবাহী ট্যাংকার ইতোমধ্যেই তাদের রুট পরিবর্তন করতে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে তেলের চূড়ান্ত মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির তেলের মজুত সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তা বাজারকে স্থিতিশীল করতে পারছে না। কারণ ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক