জামালপুরের চরভূমি ও বিস্তীর্ণ মরিচের ক্ষেতগুলোতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঁচা মরিচ তোলায়। চলতি বছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে মরিচের আবাদ ও ফলন কিছুটা কম, তবে বিদেশে রফতানি হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজার থেকে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মরিচ সংগ্রহ ও বিক্রির কাজ চলছে। মাঠ থেকে মরিচ সংগ্রহ করে পাইকাররা সাধারণ বাজার মূল্যের চেয়ে ৪-৫ টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করছেন। এরপর মোড়কজাত করে চট্টগ্রাম রপ্তানি পোর্টের মাধ্যমে মালয়েশিয়াতে পাঠানো হচ্ছে। প্রতি কার্টনে ৯ কেজি মরিচ থাকে।
এ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রফতানি করা হয়েছে প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন মরিচ। সাধারণ বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয় ২৮ টাকা, কিন্তু বিদেশি বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকায়। এতে জামালপুরের কৃষকরা এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছেন।
রফতানি হওয়ায় দেশে ডলার প্রবাহ ঘটছে এবং প্রান্তিক কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। মালয়েশিয়ার বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সঠিক মানের মরিচ সরবরাহ করলে এই পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। একজন উদ্যোক্তা উল্লেখ করেন, “বিদেশি বাজারের জন্য মানসম্পন্ন মরিচ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এতে আমাদের কৃষকরা লাভবান হবেন এবং রফতানি আরও বাড়বে।”
জামালপুরের কৃষকরা জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবার উৎপাদন কম হয়েছে। কৃষক আমিনুল রহমান বলেন, “এ বছর আমাদের ভালো উৎপাদন হয়নি, তবে বিদেশে রফতানি হচ্ছে বলে দাম ভালো পাচ্ছি।” আর মরিচ চাষি রানা মিয়া বলেন, “বিদেশে রফতানি হওয়ায় এবার আমাদের ন্যায্য দাম পাচ্ছি।” কৃষক নাহিদ ইসলাম যোগ করেন, “সারের দাম বাড়ছে, তাই খরচও বেশি। বিদেশে রফতানি হওয়ায় দাম মোটামুটি ভালো, খরচও ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান জানান, মাদারগঞ্জ ও জামালপুর থেকে কিছু কোম্পানি এবং এক্সপোর্টের মাধ্যমে মরিচ রফতানি হচ্ছে। কৃষকরা স্থানীয় বাজার থেকে ৩-৪ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। বিদেশি বাজারে মরিচ বিক্রি করে দেশে ডলার প্রবাহ ঘটছে। কৃষি বিভাগ মানসম্পন্ন এবং এক্সপোর্টযোগ্য মরিচ নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে।
এ বছর জামালপুর জেলায় মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি। তবে বাস্তবে চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৬ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন।
রফতানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ কৃষক-উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিদেশি বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং সঠিক মানের মরিচ সরবরাহ নিশ্চিত করলে জামালপুরের মরিচ রফতানি আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।
কসমিক ডেস্ক