ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 19, 2026 ইং
ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির পর বড় ধরনের কূটনৈতিক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু মার্কিন নৌজাহাজ এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।

চুক্তি কার্যকরের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জানান, ভিন্ন মত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তি তিনি অনুমোদন করেছেন। তার মতে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা করবেন—এ আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি চুক্তিতে সম্মতি দেন।

খামেনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হলেও তা কখনোই শত্রুপক্ষের শর্ত মেনে নেওয়া হিসেবে দেখা যাবে না।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল সহায়তার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশকে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। যদিও সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারী পক্ষ জানায়, চুক্তিটি দূর থেকেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য বৈঠক অব্যাহত থাকবে।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত না মানলে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। তিনি ইসরায়েলি কিছু রাজনৈতিক নেতারও সমালোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সম্মান করার আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরলেও চুক্তির পর লেবাননে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। হিজবুল্লাহ এই চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক উত্তেজনা কমালেও দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আস্থার সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

সব মিলিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার ও নতুন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুলাভাই ও শ্যালকের

বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুলাভাই ও শ্যালকের