পাবনার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যচরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জোতকাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মঞ্জু শেখ স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা এবং চর তারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীরও ভাতিজা বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে রূপ নেয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখ নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা জহুরুল ইসলাম ও জমির খাঁ নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তাদের মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জনতার কাছ থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আটক জহুরুল ইসলাম ভাঁড়ারা ইউনিয়নের খাস চর বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জমির খাঁ চর মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় আটক দুই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি এবং অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনায় কারও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
কসমিক ডেস্ক