ইরানের রাজধানী তেহরান-এ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা দায়িত্বে কিশোরদের অংশগ্রহণের খবর সামনে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ১২ বছর বয়সী শিশুদেরও চেকপয়েন্টে দায়িত্ব পালনে যুক্ত করছে।
খবরে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপয়েন্টে কিশোরদের অস্ত্র হাতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
ইরান সরকার ‘ফর ইরান’ নামে একটি নিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে সর্বনিম্ন বয়স ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীরা আইআরজিসি এবং বাসিজ বাহিনী-কে সহায়তা করতে পারে বলে জানা গেছে।
একজন ইরানি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, ১২ বছর বয়সীরাও এই কর্মসূচিতে নাম লেখাতে পারছে এবং তারা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে। এসব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে তথ্য সংগ্রহ, টহল দেওয়া এবং রাতে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
স্থানীয়দের মতে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র কিশোরদের সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে। তারা যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলছে। কিছু ক্ষেত্রে রাতে তারা দলবদ্ধভাবে সড়কে টহল দিচ্ছে এবং স্লোগানও দিচ্ছে।
একজন বাসিন্দা জানান, সামরিক যানবাহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও অস্ত্রধারী কিশোরদের অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও হামলা হলে তারা দ্রুত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এমনকি প্রশিক্ষণহীন অবস্থায় তাদের সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার ঘটনাও দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতি মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিশুদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিশোরদের সম্পৃক্ততা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চিত্রকে যেমন নতুনভাবে তুলে ধরছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও এটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে।
কসমিক ডেস্ক