বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগলি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনার সময় উভয় পক্ষই বাংলাদেশে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি সরকার, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে দুই পক্ষই মতবিনিময় করেন এবং সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূতকে তার সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি সুইজারল্যান্ডকে বাংলাদেশের গ্রীন এনার্জি খাত, বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এসব খাতে সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও নীতিগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন।
অন্যদিকে সুইস প্রতিনিধিদলে ছিলেন দূতাবাসের হেড অব পলিটিক্যাল, ইকোনমিক এবং কমিউনিকেশন অ্যাফেয়ার্স মি. আলবের্তো জিওভানেত্তি এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল, ইকোনমিক ও প্রেস অফিসার মি. খালেদ চৌধুরী।
এই বৈঠককে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বিনিয়োগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং মানবাধিকার ইস্যুতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক