মব সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মব সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
মব সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছবির ক্যাপশন:

মব সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় গত ১৬ মাসে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, আগুন দেওয়ার ঘটনা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অন্তত ১ হাজার ২৪৩টি শিল্পকারখানা মব হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ারস কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন এ কারখানায় হামলা চালানো হয়। ধারণা করা হয়, ওই ঘটনায় অন্তত ১৮২ জনের মৃত্যু ঘটে। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার দিন রাতে টানা পাঁচ দিন ধরে জ্বলে থাকা আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও জড়িতদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা গ্রেপ্তার হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মন্ত্রীর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বের করে দিয়ে লুটপাট শুরু করা হয়। পরে একাধিক দল ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতের দিকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভবনটি তালাবদ্ধ করে চলে যায়। দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ধরনের বিচারহীনতার অভিযোগ শুধু একটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ না থাকায় অনেক উদ্যোক্তা আতঙ্কে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান আর চালু হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে রাজধানীতে সংঘটিত দাঙ্গার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ঘটনা ঘটেছে মতিঝিল, গুলশান ও তেজগাঁও এলাকায়। মতিঝিলে একটি বাণিজ্যিক ভবন দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মব সহিংসতায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের সাবেক স্ত্রীর বাসা ঘিরে মব হামলা এবং বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় পরিকল্পিত ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অনুকূলে নেই। তার মতে, নিরাপদ পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাণিজ্যিক ও অভিজাত এলাকায় মব সন্ত্রাসের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের আস্থা সংকটে পড়েছে। এতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ধরনের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও সঠিক সময়ে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াত আমিরের পোস্ট নিয়ে সন্দেহ, হ্যাক দাবি প্রশ্নবিদ্ধ : ম

জামায়াত আমিরের পোস্ট নিয়ে সন্দেহ, হ্যাক দাবি প্রশ্নবিদ্ধ : ম