দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন বিরামপুর থানার বেতার বার্তা অপারেটর কনস্টেবল Rasheduzzaman এবং হাকিমপুর থানার কনস্টেবল Saiful Islam।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৬ মে) সকালে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাপাচার সন্দেহে জামিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে বাইসাইকেলসহ আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা মোট ৭টি সোনার বার উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলে তিনি কয়েকটি সোনার বার পুকুরে ফেলে দেন। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে ২টি সোনার বার উদ্ধার করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, উদ্ধার হওয়া সোনার বারগুলোর মধ্যে কিছু আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি দুই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
বিরামপুর সার্কেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত টিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরো ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের প্রকৃত হিসাব নিরূপণ করতে।
স্থানীয় এক সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগাযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাইাধীন।
এর আগে বিরামপুর ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার সোনা পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এসব এলাকায় চোরাচালানের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
Border Guard Bangladesh এবং স্থানীয় পুলিশ এর আগেও একাধিক অভিযানে সোনার বার জব্দ করেছে।
বিরামপুর থানার ওসি Safiul Islam Sarkar বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে তদন্ত চলছে।
তিনি জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিরামপুর-নবাবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার Harej Uddin বলেন, ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কসমিক ডেস্ক