রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় অনলাইন জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে থাকা এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. ফয়সাল মাহমুদ (২১) রূপগঞ্জের একটি কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুল হক সুমন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বহুতল ভবনের পাশের দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে ফয়সালের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি প্রায় চার বছর ধরে নিয়মিত মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জুয়া খেলতেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো।
ঘটনার আগের দিন শনিবার রাতেও ফয়সাল তার মায়ের কাছে টাকা চান। তবে টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং রাগারাগি করেন। পরদিন রবিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার মা আয়েশা হককে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক টাকা দাবি করেন। এমনকি টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধরের চেষ্টা করেন।
এই অবস্থায় জীবন বাঁচাতে আয়েশা হক ভবনের অন্য বাসিন্দাদের সাহায্য চান। তার ডাক শুনে ভবনের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে এই সময়ের মধ্যেই ফয়সাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে ফয়সাল তার কক্ষের জানালার গ্রিল খুলে ফেলে এবং ১৩তলা থেকে পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে লাফ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ফয়সালকে রূপগঞ্জের একটি কারিগরি কলেজে ভর্তি করা হলেও তিনি নিয়মিত ক্লাসে যেতেন না। বরং অধিকাংশ সময় তিনি বাসায় থেকে অনলাইন জুয়া খেলতেন। ধীরে ধীরে এই আসক্তি তার স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।
ফয়সাল চাঁদপুর সদর উপজেলার জোড়া পুকুরপাড় এলাকার মৃত ডাক্তার এ. কে. এম. মাহমুদুল হকের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলাবাগানের একটি বহুতল ভবনের ১৩তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এই ঘটনাটি আবারও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ প্রভাব ও এর সামাজিক পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এমন আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা, পাশাপাশি সময়মতো মানসিক সহায়তা প্রদান করলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে পড়েছে