কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় সাপের কামড়ে ইমন নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ইমন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ইমন বাড়ির পাশে একটি কালভার্টের ওপর বসে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাপে কামড় দেওয়ার পরও ইমন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার চালিয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেননি। কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পরে তাকে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. বায়েজিদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ইমনকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি বলেন, সাপে কামড়ের পর রোগীকে বিষমুক্ত করার জন্য অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে ইমনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল সূত্র।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ এলাকায় সাপের কামড়ের ঘটনা নতুন নয়, তবে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া এবং অবহেলার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইমনের ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি সচেতনতার অভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাপের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইমন একজন তরুণ ও প্রাণবন্ত ছেলে ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে সময়মতো চিকিৎসা দিয়ে প্রাণহানি রোধ করা যায়।
কসমিক ডেস্ক