বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেট, ঘুষ না দিলে মিলছে না সেবা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেট, ঘুষ না দিলে মিলছে না সেবা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 11, 2026 ইং
বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেট, ঘুষ না দিলে মিলছে না সেবা ছবির ক্যাপশন:

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর বিভিন্ন কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। বাস্তবে সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা বলছে, ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো কাজই সহজে সম্পন্ন হয় না। ফলে সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়, আর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হতে হয়।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকার সাভার ও কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে দালালদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এসব অফিসে ঘুষ বাণিজ্য যেন একপ্রকার ‘ওপেন সিক্রেট’। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালালেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্র।

বিআরটিএর দাবি অনুযায়ী, তারা ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ ১৮টি সেবা অনলাইনে চালু করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব সেবা পেতে এখনো অনেককেই দালালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সনদ, নিবন্ধন বা মালিকানা বদলের মতো সেবায় ঘুষ ছাড়া কাজ এগোয় না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিআরটিএ অফিসের আশপাশে ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ ও স্ট্যাম্পের দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালালচক্র। তারা গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এবং নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। সাভার অফিসে একাধিক দালাল অফিসের ভেতরেই বসে কাজ করছেন, যা নিয়মবহির্ভূত হলেও কার্যত প্রকাশ্যেই চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাভার অফিসে একটি প্রভাবশালী চক্র সব ধরনের সেবার জন্য নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। গ্রাহকদের দাবি, দালালদের টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়, আর না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার জন্যও আলাদা করে টাকা নেওয়া হয়।

ইকুরিয়া অফিসেও একই চিত্র। এখানে মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নেয় দালালরা। অনলাইন আবেদনসহ বিভিন্ন ধাপে সহায়তার নামে তারা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থ দাবি করা হয়। এমনকি কিছু গ্রাহকের নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা পরে নতুন করে জমা দিতে বাধ্য করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রবাসীরা দেশে এসে অল্প সময়ের মধ্যে লাইসেন্স বা অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে দালালের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থও খরচ করতে হচ্ছে।

যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন বা প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুর্নীতি দমন কমিশন এর আগের এক অভিযানে ঘুষের বিনিময়ে পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন সেবা চালু করলেই দুর্নীতি বন্ধ হয় না, যদি মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যায়। দালালচক্র নির্মূল করতে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সর্বোপরি, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সংস্থায় এ ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সেবার মান উন্নয়ন ও দুর্নীতি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পাইপলাইন ক্ষতিতে রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট

পাইপলাইন ক্ষতিতে রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট