পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এক রুশ প্রকৌশলীর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম চুরকিন ভ্লাদিমির (৪০)। তিনি প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকায় অবস্থান করতেন এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। ওই সময় তিনি আবাসিক এলাকার ভেতরে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে Ishwardi Upazila Health Complex-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত চুরকিন ভ্লাদিমির রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা Rosatom-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Atomtech Energo-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি Rooppur Nuclear Power Plant প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক ভবনে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মরদেহ পাঠানো হয়েছে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার নিজ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রকল্পে বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তাদের আকস্মিক মৃত্যু সবসময়ই আলোচনার জন্ম দেয়। তবে চিকিৎসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যুই হিসেবে দেখছে।
এদিকে প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, রূপপুর প্রকল্পে এই ঘটনা একটি দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক