দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে Mymensingh Division প্রতিষ্ঠার এক দশক পার হলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন এখনও দৃশ্যমান হয়নি। ১১ বছরে বিভাগীয় কার্যালয়গুলো এখনো পুরনো ধার করা ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে, আর শহরের ভেতরে বেড়েছে যানজট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ।
বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে একটি আধুনিক বিভাগীয় শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয় সরকার। শুরুতে প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে তা পরিবর্তন করে ৯৪৫ দশমিক ২২ একরে সীমিত করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
নাগরিক সংগঠনগুলোর মতে, বিভাগ ঘোষণার সময় বড় বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। ব্রহ্মপুত্রের ওপারে নতুন শহর নির্মাণ তো দূরের কথা, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াই এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের বিপরীতে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে—জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলা, দুর্গম চর এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকা এবং বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাটের প্রয়োজনীয়তা।
প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারের জন্য প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ শুরু হয়নি, ফলে মাটি পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানান, একাধিক মামলার কারণে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। মামলার নিষ্পত্তি না হলে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।
গণপূর্ত বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বিভাগীয় শহরে বিভাগীয় কার্যালয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি আধুনিক নভোথিয়েটার, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।
সব মিলিয়ে, এক সময়ের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এখন নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ময়মনসিংহের নতুন বিভাগীয় শহরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।