দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর অবশেষে চালুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে Hazrat Shahjalal International Airport-এর তৃতীয় টার্মিনাল। আগামী ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Civil Aviation Authority of Bangladesh) সূত্র জানিয়েছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পর আর্থিক ও পরিচালন বিষয়গুলোতে সমন্বয় হয়েছে, যা পূর্বের অচলাবস্থা কাটাতে সহায়ক হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক কারিগরি বৈঠকে সার্ভিস চার্জ, অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়গুলো পুনর্বিন্যাস করা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমে এসেছে এবং চুক্তি চূড়ান্তের পথে অগ্রসর হয়েছে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, সোজিৎজ কর্পোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন। তারা ইতোমধ্যে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে ব্যয় কমানো হয়েছে এবং একটি ‘উইন-উইন’ সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে Japan International Cooperation Agency এবং প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালটির কাজ ইতোমধ্যে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
টার্মিনাল চালুতে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বিমানবন্দরে যাত্রী ভিড়, স্লট সংকট এবং সেবার মান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত চালু হলে এসব সমস্যার অনেকটাই কমে আসবে।
বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান বলেন, এই টার্মিনাল শুধু বিমানবন্দরের চাপ কমাবে না, বরং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, ৩ এপ্রিলের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে এবং খুব শিগগিরই টার্মিনাল চালু হবে।
কসমিক ডেস্ক