বগুড়ায় নির্বাচনী মাঠে সংঘাতের আশঙ্কা, অভিযোগ অস্বীকার বিএনপির The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বগুড়ায় নির্বাচনী মাঠে সংঘাতের আশঙ্কা, অভিযোগ অস্বীকার বিএনপির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 27, 2026 ইং
বগুড়ায় নির্বাচনী মাঠে সংঘাতের আশঙ্কা, অভিযোগ অস্বীকার বিএনপির ছবির ক্যাপশন:
ad728

বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ওই আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের কর্মী–সমর্থকেরা কেটলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দিচ্ছেন না এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন।

মঙ্গলবার রাতে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে তাঁর অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে অস্বীকার করেছেন বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, শুরু থেকেই তাঁকে বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করতে না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করা হয়েছে। ঋণখেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কখনোই ঋণখেলাপি ছিলেন না। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে আদালতে যেতে বিলম্ব হওয়ায় একটি পক্ষ সুযোগ নিয়েছে।

মান্না বলেন, বিএনপির সঙ্গে একটি নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছিল এবং প্রথমে তাঁকেই এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের প্রক্রিয়ায় সময় লাগার সুযোগে তাঁকে মাঠের বাইরে রাখতে ‘ডামি প্রার্থী’ দাঁড় করানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এলাকায় সাম্প্রতিক প্রচারণা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এলাকায় আসার পর থেকেই তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “আমার পক্ষে কাজ করলে ১২ তারিখের পর ব্যবসা করতে পারবে না—এ ধরনের ভয় দেখানো হচ্ছে। কৃষক, গৃহবধূ, ইউনিয়ন নেতাদেরও মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

নাগরিক ঐক্যের নারী সংগঠনের সদস্যদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন মান্না। তিনি বলেন, সোমবার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ও দেউলি এলাকায় কেটলি প্রতীকের প্রচারণা চালাতে গেলে তাঁদের পথ আটকে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে হ্যান্ডমাইকে প্রচারে নামলেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মান্না আরও বলেন, দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে বলেন, “আমি চাই, পরিস্থিতির পরিবর্তন হোক। যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হয়। সেই ভোটে যে জিতবে, জিতুক।”

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনে অভিযোগ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি, তবে প্রয়োজন হলে করবেন। জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোট বা সমঝোতার গুজবও তিনি নাকচ করে দেন এবং ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বলেন, নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী এলাকায় দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন এবং প্রচার শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর মাঠে নেমেছেন। তাঁর দাবি, ভোটারদের সাড়া না পেয়ে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, “ধানের শীষের কেউ কেটলি প্রতীকের প্রচারে বাধা দিয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ থাকলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা যেত। তা না করে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে ছোট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহা

কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহা