ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনায় কোনো চুক্তি না হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেন বর্তমান সংঘাত আবারও শুরু না হয়। তার মতে, নতুন করে উত্তেজনা শুরু হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
ইসহাক দার বলেন, “উভয় পক্ষের জন্যই জরুরি হলো যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমিয়ে আনা।”
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্য থাকায় শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
পাকিস্তান শুরু থেকেই এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ইসলামাবাদ বারবার দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করেছে, যাতে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতেও Islamabad-কে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজতর করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় ব্যর্থতা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা একটি ইতিবাচক দিক। কারণ সরাসরি সংঘাতে ফিরে গেলে তা হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সংলাপ চালু না থাকলেও অন্তত সাময়িক শান্তি ধরে রাখা জরুরি।
পাকিস্তানের অবস্থানকে অনেকেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। কারণ দেশটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও সংলাপের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো—এই সব বিষয় সমাধান না হলে সংকট পুরোপুরি কাটবে না।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি কূটনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—তারা কি আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করবে, নাকি উত্তেজনা আবারও বাড়বে।
কসমিক ডেস্ক