বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে সংগীত শিক্ষকের নিয়োগের প্রস্তাবনা দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ প্রস্তাবনার বিষয়টি জানান। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তবে বেতন ও ভাতা প্রদান করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ২৮ আগস্ট সরকার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগসহ সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষার জন্যও পদ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে নভেম্বরে আরেকটি গেজেটে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার জন্য পৃথক নিয়োগের সুযোগ বাদ দেওয়া হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দায়িত্ব থাকবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের, আর বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।”
এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গীত শিক্ষার ক্ষেত্রে মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকের দক্ষতা ও যোগ্যতা নির্ধারণে স্বতন্ত্র ভূমিকা রাখতে পারবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, সংগীত শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
এছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন শুধু পাঠ্যক্রমের মূল বিষয় নয়, বরং সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক দক্ষতায়ও শিক্ষিত হবে। সংগীত শিক্ষকের নিয়োগে শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত, সুর ও বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যায়ে সুগভীর ধারণা অর্জন করতে পারবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিক নির্দেশনা আনবে। শিক্ষাবিদরা আশা করছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি ও সৃজনশীল শিক্ষার অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা সংগীতের মৌলিক শিক্ষা থেকে শুরু করে প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতাও শিখতে পারবে। এছাড়া, এটি শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নেও সহায়ক হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হতে পারে এবং নির্বাচিত শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করলে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।