ধন-সম্পদ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা, যা আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন। পৃথিবীতে জীবনধারণ, পরিবার পরিচালনা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পদের প্রয়োজন অপরিহার্য। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি মাধ্যম মাত্র।
ইসলাম সম্পদ অর্জনকে হারাম করেনি, বরং হালাল উপায়ে উপার্জনকে উৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের এমনভাবে সম্পদ রেখে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তারা পরবর্তীতে মানুষের মুখাপেক্ষী না হয়। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম দারিদ্র্যকে উৎসাহিত করে না, বরং সুষম ও সম্মানজনক জীবিকা অর্জনের দিকেই নির্দেশনা দেয়।
তবে সম্পদ থাকা মানেই আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তি—এমন ধারণা ইসলামে ভুল বলে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, অনেক সময় কাফের বা অবাধ্য লোককেও আল্লাহ তাআলা সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে থাকেন, যা তাদের জন্য কোনো মর্যাদার প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি পরীক্ষাও হতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। যে ব্যক্তি বেশি তাকওয়াবান, আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা তত বেশি। সম্পদ, পদ বা ক্ষমতা নয়—বরং নৈতিকতা ও আল্লাহর নির্দেশ পালনই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি।
যদি কেউ হালাল পথে সম্পদ উপার্জন করে এবং আল্লাহর নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী তা ব্যয় করে, তাহলে তা তার জন্য কল্যাণকর হতে পারে। বিশেষ করে জাকাত আদায়, দান-সদকা এবং গরিব-দুঃখীদের সহায়তা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। এগুলো সম্পদের পবিত্রতা নিশ্চিত করে এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
অন্যদিকে, সম্পদের ক্ষেত্রে অবহেলা বা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা মানুষের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে জাকাত না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, জাকাত আদায় না করা সম্পদ কিয়ামতের দিনে ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, যা তার মালিককে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেবে।
এই বিষয়টি বোঝাতে সাপের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। যেমন সাপের বিষ থেকে মানুষ উপকৃত হতে পারে, কিন্তু নিয়ম না জানলে তা জীবনহানির কারণ হয়—তেমনি সম্পদও সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে তা ধ্বংসের কারণ হতে পারে। সাপের বিষ যেমন গবেষণা ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সম্পদও মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে, যদি তা হালাল ও সঠিক পথে পরিচালিত হয়।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর অনেক মানুষ সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে, মূলত অসতর্কতার কারণে। একইভাবে সম্পদের ক্ষেত্রেও অসতর্কতা মানুষের আখিরাত ও দুনিয়ায় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সুতরাং একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জন করা, নিয়মিত জাকাত প্রদান করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান-সদকা করা। এর মাধ্যমে সম্পদ যেমন পবিত্র হয়, তেমনি সমাজেও শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে সম্পদ ব্যবহারের তাওফিক দান করুন।
কসমিক ডেস্ক