যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 4, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্র ৩৯টি দেশের চিকিৎসকদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস (USCIS) সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করে এ তথ্য জানায়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের চিকিৎসকদের ভিসা আবেদন, ওয়ার্ক পারমিট এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ আবার স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে। এর আগে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সব ধরনের অভিবাসন কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। কারণ দেশটিতে মোট চিকিৎসকের প্রায় ২৫ শতাংশই বিদেশি। ফলে বিদেশি চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক হাসপাতাল তাদের চিকিৎসকদের সাময়িক ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়। এতে করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভেনেজুয়েলা থেকে আসা চিকিৎসকদের ওপর। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও বৈধ কাজের অনুমতি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। এতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ঘাটতি আরও তীব্র হয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন মার্কিন চিকিৎসক সংগঠন ও হাসপাতাল প্রশাসন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানায়। তারা যুক্তি দেন যে, বিদেশি চিকিৎসকদের অংশগ্রহণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এই অবস্থাকে তারা “জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

চাপের মুখে প্রশাসন অবশেষে নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সুবিধা আপাতত শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চিকিৎসকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা খাতে বিদেশি চিকিৎসকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ করে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পুরো ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হাসপাতালগুলো আবারও স্বস্তি ফিরে পেতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি চিকিৎসকদের মধ্যে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের নীতি পরিবর্তন আরও সতর্কতার সঙ্গে করা প্রয়োজন, কারণ এতে আন্তর্জাতিক চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয় এবং স্বাস্থ্যসেবার স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থায় সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানি হলে ইরানে ‘কঠিন আঘাত’: ট্রাম্প

বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানি হলে ইরানে ‘কঠিন আঘাত’: ট্রাম্প