মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতার-এর বৃহত্তম এলএনজি স্থাপনা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দেশটির এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
QatarEnergy-এর প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজেওর’ ঘোষণা করে সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters ও CNN জানিয়েছে, কাতারের এই স্থাপনা অচল হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Kpler-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের এলএনজির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতার থেকে আমদানি করে।
বর্তমানে এই দেশগুলোর হাতে মাত্র ১ থেকে ২ সপ্তাহের এলএনজি মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, তাইওয়ান-সহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকেও এই সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলএনজি চাহিদা কাতার থেকে পূরণ হয় এবং বর্তমানে তাদের মজুতও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।
সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায়। এতে করে এলএনজি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ কমে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক