মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় এবার বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবার জেনারেল মোটরস ও ফোর্ডের মতো শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তারা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় অটোমোবাইল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল—জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে এসব বেসামরিক কারখানাকে দ্রুত সামরিক উৎপাদনে রূপান্তর করা যায়।
এই উদ্যোগ মূলত ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া অস্ত্র ঘাটতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, আর্টিলারি সিস্টেম এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সরবরাহ চেইনে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় শুধু জেনারেল মোটরস ও ফোর্ডই নয়, বরং জিই অ্যারোস্পেস এবং ওশকোশ কর্পোরেশন-এর মতো প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও উঠে এসেছে।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে শুধু প্রচলিত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। তাই বেসরকারি শিল্পখাতকেও সামরিক উৎপাদনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে এক পেন্টাগন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে দ্রুত সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য বাণিজ্যিক সমাধান এবং উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন উৎপাদন কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেমন ডেট্রয়েটের গাড়ি কারখানাগুলো ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়েছিল, তেমনি একই ধরনের মডেল আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। একই সঙ্গে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতেও অস্ত্র ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে, যা অস্ত্রভান্ডারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতি, এই ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক বাজেট ৫০০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে মোট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর আগে তিনি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
তবে এবার সাধারণ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি নতুন যুগ শুরু হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক