প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশের শিক্ষাখাতে কোনো সুস্পষ্ট ভিশন ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রূপগঞ্জ-এর তারাব পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “এত বছর ধরে শিক্ষায় কোনো ভিশন ছিল না। তবে বর্তমান সরকার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, নতুন ভিশনের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে এইচএসসি পাস করার পরও অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতি চালু করতে হয়, যা একটি সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে উচ্চশিক্ষায় আসনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।
শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ভবন নির্মাণ করছি, কিন্তু ভেতরে শিক্ষার মান কতটা উন্নত হচ্ছে, সেটিই আসল প্রশ্ন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার কনটেন্ট উন্নত করা জরুরি।
শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সঠিক শিক্ষক যেন শ্রেণিকক্ষে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের আরও সক্রিয় হতে হবে।” তিনি শিক্ষকদের এগিয়ে এসে শিক্ষার মানোন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের মধ্যে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে শিক্ষার মান উন্নত হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে না।” তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ড. মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, করোনা মহামারি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকটের কারণে শিক্ষাখাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, শিক্ষাকে একটি সেবাখাত হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. রায়হান কবির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
বক্তারা সবাই একমত হন যে, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।
সব মিলিয়ে, সেমিনারে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কসমিক ডেস্ক