বাড়ছে মামলাজট, বাড়ছে ভোগান্তি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাড়ছে মামলাজট, বাড়ছে ভোগান্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 30, 2026 ইং
বাড়ছে মামলাজট, বাড়ছে ভোগান্তি ছবির ক্যাপশন:

দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলাজট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও বিচার বিভাগের নানা উদ্যোগের পরও এই জট কমানো সম্ভব হচ্ছে না, বরং দিন দিন তা আরও বাড়ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৩১টি, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে অধিকাংশই অধস্তন আদালতে রয়েছে। অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি। অন্যদিকে আপিল বিভাগে ৪১ হাজার ৫৫১টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তুলনামূলকভাবে এক বছর আগেও এই সংখ্যা কম ছিল। গত বছরের ১ জানুয়ারি দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ২০১টি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে নতুন করে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৩০টি মামলা যুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা দায়েরের হার নিষ্পত্তির তুলনায় বেশি হওয়ায় এই জট ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে বিচারকের স্বল্পতাও একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে ১০৮ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে আপিল বিভাগে পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০৩ জন। অন্যদিকে অধস্তন আদালতে বিচারক রয়েছেন ২ হাজার ৩৪১ জন, যা মামলার সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও আইন কমিশন উভয়েই মামলাজট কমাতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে অধস্তন আদালতের বিচারক সংখ্যা অন্তত ৬ হাজারে উন্নীত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে আইন কমিশনের প্রতিবেদনে মামলাজট বৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো—পর্যাপ্ত বিচারক না থাকা, বিশেষায়িত আদালতে বিচারকের ঘাটতি, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, জনবলের অভাব এবং দুর্বল অবকাঠামো।

আইনজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা গেলে ভবিষ্যতে এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। মামলাজটের কারণে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি বিচার পেতে বিলম্ব হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মামলাজট বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় সমস্যা। এটি সমাধানে বার ও বেঞ্চকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জনস্বার্থ মামলার আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, শুধু পরিকল্পনা নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, মামলাজট বৃদ্ধির দুটি প্রধান কারণ হলো মামলা দায়েরের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না থাকা এবং দ্রুত নিষ্পত্তির অভাব। তার মতে, বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মামলার সংখ্যা কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, মামলাজট এখন দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন আজ, নির্বাচনের পথে ত্রয়োদশ সংসদ

মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন আজ, নির্বাচনের পথে ত্রয়োদশ সংসদ