ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন।
তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই শেষে এবং অন্য কোনো মামলা না থাকায় আবুল সরকারকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের জামিন দেন। একই সঙ্গে আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৪ নভেম্বর। সেদিন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি লোকজ মেলায় পালাগানের আসরে আবুল সরকার ধর্ম অবমাননামূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ। পরে ঘিওর উপজেলার একজন ব্যক্তি বাদী হয়ে ঘিওর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর অবশেষে উচ্চ আদালতের জামিনের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পেলেন।
আইনজীবীদের মতে, জামিনে মুক্তি পাওয়া মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি নয়; মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে তার সমর্থকরা মুক্তিকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে এখনো বিতর্ক চলমান।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে জামিনে মুক্তি পেলেও আবুল সরকারের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক