ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্প্রতি ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ জানিয়েছেন, ১৯ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
এর আগে, ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ওই চার্জশিটে বাদীর অসন্তোষ প্রকাশ করার পর, ১৫ জানুয়ারি আদালত আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে হস্তান্তর করেন।
তদন্ত সংস্থা সিআইডি এখনও তার প্রতিবেদন দাখিল করেনি। অতএব, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ১৯ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন। আদালতের এই পদক্ষেপ মামলার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে সময়মতো না হওয়া মামলার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটায় এবং এটি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিআইডির প্রতিবেদন দাখিলের পরই আদালত পরবর্তী শুনানি ও মামলার রায়ের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতার দিক থেকে নজরকাড়া একটি ঘটনা। আদালত ও তদন্ত সংস্থা উভয়ই মামলার যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রমাণভিত্তিক রায় প্রদানের জন্য দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।