ঢাকা থেকে ট্রাকে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের চার যাত্রী। পরে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মহাসড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। শনিবার এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, উপজেলার ভূইয়াগাতি সেতুর পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আইজুদ্দিনের ছেলে শাহজামাল (৩৬), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের আজাদ ব্যাপারীর ছেলে আতাউর রহমান (৪০) এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার আব্দুল হাকিমের ছেলে কাইয়ুম (২৮)। উদ্ধার হওয়া অপর একজনের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে একজন কিছুটা চেতনা ফিরে পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। ওই যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ঢাকা থেকে ট্রাকে করে উত্তরাঞ্চলের দিকে বাড়ি ফিরছিলেন।
যাত্রাপথে ট্রাকে থাকা এক ব্যক্তি তাদের খেজুর খেতে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল এলাকায় সেই খেজুর খাওয়ার পরপরই তারা অচেতন হয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নেয়। এরপর ভোরের দিকে তাদের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।
সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সামিউল ইসলাম রনি জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
তিনি বলেন, সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীরা ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা এসে তাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ডাক্তারদের মতে, যদি শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়, তাহলে রোববারের মধ্যে তারা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারবেন।
মহাসড়কে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রীরা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ না করার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
কসমিক ডেস্ক