তেহরান ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রেক্ষাপটে ইরান একাধিক দাবি তুলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা শুল্ক আরোপ করা হবে এবং এই অঞ্চল থেকে মার্কিন প্রধান সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে।
মূল চ্যালেঞ্জের একটি হলো, এই টোল কেবল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রযোজ্য হবে নাকি যুদ্ধজাহাজও এর আওতায় পড়বে।
মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর সদর দফতর বাহরাইনে অবস্থিত। এই নৌবহর পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের একাংশসহ প্রায় ২৫ লাখ বর্গমাইল জলসীমার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। এছাড়া হরমুজ প্রণালি, সুয়েজ খাল ও বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপরও নজরদারি করে।
গবেষক কলিন কোহ বলেন, “ইরানের শুল্কব্যবস্থা কার্যকর হলে মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত উপস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক বিন্যাসে পরিবর্তন না আনে, তবে পঞ্চম নৌবহরের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ হলে শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ নয়, মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ও সামরিক পরিকল্পনাকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। এটি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক