মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাজধানী আংকারার প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইসরায়েল ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এরদোয়ান দাবি করেন, ইসরায়েল এমন একটি শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা নিজেদের অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং সেই মানসিকতা থেকেই বিভিন্ন দেশে হামলা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, “গাজা দিয়ে শুরু হয়ে ইয়েমেন ও লেবাননে ছড়িয়ে পড়া এবং সর্বশেষ ইরানে লক্ষ্যবস্তু করা হামলাগুলো শুধুমাত্র নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচালিত হচ্ছে—এমনটি বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই।”
তার মতে, এসব হামলার পেছনে আরও বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে।
এরদোয়ান আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তনের সময় বিশ্ববাসীর সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আল-আকসা মসজিদ প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, “ইসরায়েল কোনো বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়াই মুসল্লিদের জন্য আমাদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ ১৭ দিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এরদোয়ান দাবি করেন, “প্রতিশ্রুত ভূমির স্বপ্ন থেকে শুরু করে নানা ধরনের বয়ান একসঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে, যা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত।”
তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আরোপিত এজেন্ডা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবতা ও এই পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই অভিযানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলসহ জর্দান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে।
ইরানের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিমান চলাচলেও পড়েছে।
এদিকে ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানও বিস্তৃত করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, এরদোয়ানের এই মন্তব্য চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক