সরকারের সুস্পষ্ট আশ্বাস এবং চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। জাতীয় স্বার্থ, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং শিল্পখাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিটিএমএ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দীনের সভাপতিত্বে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষভাবে স্পিনিং সেক্টরের বিদ্যমান সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় বাণিজ্য উপদেষ্টা স্পিনিং শিল্পের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির জন্য এই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পিনিং সেক্টরের সমস্যাগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভা শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দীন জানান, স্পিনিং সেক্টরসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ওই বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহিমা বেগম এবং এনবিআরের শুল্ক নীতি সংশ্লিষ্ট সদস্য মুবিনুল কবীরসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। শিল্প সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাঁদের প্রস্তাবনা ও দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
সরকারের আশ্বাস এবং ফলপ্রসূ সংলাপের ধারাবাহিকতায় বিটিএমএ তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, স্পিনিং সেক্টরের সংকট দ্রুত সমাধান হলে দেশের রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।
পরিস্থিতি ও আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছে বিটিএমএ।
কসমিক ডেস্ক