সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি ইটভাটার ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার কারণে কৃষিজমি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই অবিলম্বে ইটভাটা বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, খামারগাঁতী এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স লামিয়া হাই চয়েস ব্রিকস’ নামের ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপের কারণে আশপাশের কৃষিজমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু ধানই নয়, বিভিন্ন সবজি ক্ষেত, ফলদ গাছ এবং বনজ উদ্ভিদও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে অন্তত ৭২ জন কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৃষকরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে ফসল ফলান। কিন্তু ইটভাটার দূষণের কারণে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ দূষণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।
স্থানীয়দের মতে, ইটভাটার কার্যক্রমের কারণে বসবাসের পরিবেশও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা অবিলম্বে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসনের প্রতি।
এদিকে মানববন্ধনে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ যাচাই করে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশে ইটভাটার দূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে রায়গঞ্জের এই মানববন্ধন স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দুর্ভোগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
কসমিক ডেস্ক