রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা-এর সাবেক এসআই মো. মাহফুজুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন নারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুক্তা পারভীন। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার (৩ মে) দুপুর ২টার দিকে রাজবাড়ী জেলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
অ্যাডভোকেট মুক্তা পারভীন জানান, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল তাকে রাজবাড়ী আদালত চত্বরে অবস্থিত জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনে থেকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে গভীর রাতে রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, মাইক্রোবাসে নেওয়ার সময় তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। এরপর রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। এই ঘটনার প্রভাব এখনো তার মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে একই বছরের ১৭ মার্চ রাজবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়।
তবে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার দাবি, তদন্তকারী কর্মকর্তা যথাযথভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ না করে এক বছরের মাথায় একতরফা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনি ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরকে নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তা পারভীন আরও অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি এসআই মাহফুজুর রহমান তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। এছাড়া মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অ্যাডভোকেট মুক্তা পারভীন সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। পাশাপাশি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও আহ্বান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পিবিআই যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
এ ঘটনায় আইনজীবী মহলে ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগগুলো যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার প্রশ্নে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই মামলা এখন পুনঃতদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।
কসমিক ডেস্ক