হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী রবিবার (৩ মে) থেকেই দেশের ছয়টি হাওরপ্রধান জেলায় এই সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে।
Ministry of Food-এর জনসংযোগ বিভাগ থেকে শুক্রবার (১ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, হাওর অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত বোরো ধান ও চাল সংরক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যেসব জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সেগুলো হলো— Netrokona, Kishoreganj, Sunamganj, Sylhet, Moulvibazar এবং Habiganj। এসব অঞ্চল মূলত হাওরবেষ্টিত হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের অন্যান্য জেলায় পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধান সংগ্রহ শুরু হবে ৩ মে থেকে এবং চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১৫ মে থেকে। অর্থাৎ, হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষ বিবেচনায় এই কার্যক্রম আগেই শুরু করা হচ্ছে।
চলতি বোরো মৌসুমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে। এই বিশাল সংগ্রহ কার্যক্রম দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংগ্রহমূল্যও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা পেয়ে সরাসরি সরকারের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারেন, সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ধান-চালের পাশাপাশি গম সংগ্রহেরও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে মোট ৫০ হাজার টন গম কেনা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে কৃষকরা একাধিক ফসলের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাবেন।
এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে কৃষকদের কাছ থেকে ধান, চাল ও গম সংগ্রহ করা হবে, যাতে বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি না হয় এবং কৃষকরা পর্যাপ্ত সময় পান তাদের পণ্য বিক্রির জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলে আগাম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী। কারণ, জলোচ্ছ্বাস বা বন্যার কারণে এই অঞ্চলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। দ্রুত সংগ্রহ শুরু হলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক