বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে এসির তার চুরির চেষ্টা করার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.আর. মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তি শরীফুল ইসলাম (২৫), তিনি মোতাহার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত অপর এক পলাতক ব্যক্তির নাম মো. ইলন (৩০) বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি মিলে কে.আর. মার্কেটের এস্টেট অফিসের একটি কক্ষে থাকা এসির তার চুরির চেষ্টা চালায়। তারা পরিকল্পিতভাবে মার্কেট এলাকায় প্রবেশ করে চুরির কাজ শুরু করে।
তবে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোরেরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শরীফুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়।
পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দেন। এর ভিত্তিতে পলাতক অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার ও জোন ইনচার্জ-১ (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে কে.আর. মার্কেটের এস্টেট অফিস কক্ষ নম্বর ৩৮-এ প্রবেশ করে এসির তার চুরির চেষ্টা করা হয়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে আটক করেন।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন চুরির চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের সময় টহল বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার্বিকভাবে, নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় বড় ধরনের চুরি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে রোধ করতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক