বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক (ইইই) বিভাগের একটি ল্যাব পুনরায় উদ্বোধনের ঘটনা সম্প্রতি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ক্যাম্পাসের গ্যারেজ রোডে নবনির্মিত একতলা ভবনে ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাব’ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুমন কুমার দেবনাথ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমানসহ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একই ভবন ও ল্যাবটি ইতোমধ্যেই ২০২৪ সালের ৪ জুন তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ উদ্বোধন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান এবং বিভাগের শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ফেরদৌস রহমান বলেছেন, “তখন শুধু বিল্ডিং উদ্বোধন করা হয়েছিল। ল্যাবের যন্ত্রপাতি ৪০ লাখ টাকার খরচে তখন ঢুকানো হয়েছিল। এখন ল্যাবের কার্যক্রম এবং যন্ত্রপাতিসহ উদ্বোধন করা হয়েছে। আপনার কাছে যে তথ্য আছে সেটা মিসইনফরমেশন।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ২০২৪ সালের ৪ জুন প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে ল্যাবের উদ্বোধনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তৎকালীন উপাচার্য ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ল্যাবের যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করছেন।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, নানা অভিযোগ ও সমালোচনার মুখে ধামাচাপা দিতে উপাচার্য পুরনো ল্যাবটি পুনরায় উদ্বোধনের মাধ্যমে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, “ল্যাবটি ২০২৪ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। বর্তমান উপাচার্য নতুন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না করে পুরনো বিষয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।”
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃত উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। পুনরায় উদ্বোধন কেবল বাহ্যিক ভাবমূর্তি তৈরির উদ্দেশ্যে হলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
উপসংহারে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ল্যাবের পুনরায় উদ্বোধন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক ও সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আশা করছে, শিক্ষার্থীরা এই উদ্বোধনকে উন্নয়নমূলক হিসেবে দেখবে, তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সতর্কতা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
কসমিক ডেস্ক