সুন্দরবন এলাকায় ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য ভাতা চালুর দাবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সুন্দরবন এলাকায় ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য ভাতা চালুর দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
সুন্দরবন এলাকায় ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য ভাতা চালুর দাবি ছবির ক্যাপশন:

সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো নারীদের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি এসব নারীকে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাঘ বিধবা’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা উপকূলীয় হওয়ায় সেখানকার অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে নিয়মিত সুন্দরবনে যান।

মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা কিংবা কাঠ সংগ্রহসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জীবিকার বড় অংশই সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু এসব কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই বাঘের আক্রমণের শিকার হন অনেক মানুষ।

এ ধরনের ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে তার স্ত্রী ও সন্তানরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের ঘটনায় স্বামী হারানো নারীদের স্থানীয়ভাবে ‘বাঘ বিধবা’ বলা হয়।

এদের অনেকেই আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন এবং পরিবার চালানোর পুরো দায়িত্ব তাদের কাঁধে এসে পড়ে।

তিনি মনে করেন, এসব নারীর জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আলাদা ভাতা চালু করা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য আরও জানান, অতীতেও এই বিষয়টি নিয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের দায়িত্বকালীন সময়ে বাঘের আক্রমণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সেই পরিকল্পনার আওতায় বাঘ বিধবাদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের কথাও ভাবা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে একটি কেন্দ্র স্থাপন করে বিধবা নারীদের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল।

তবে বিভিন্ন কারণে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি অগ্রসর হয়নি।

গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা—উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় বাঘ বিধবাদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হবে।

তিনি মনে করেন, তাদের সন্তানদের শিক্ষা, পুনর্বাসন এবং জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য আগের পরিকল্পনাগুলো নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

সংসদ সদস্যের মতে, সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের পেশা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

জীবিকার প্রয়োজনে তারা প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বনে প্রবেশ করেন।

তাই এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি চালু হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’