মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত United States-এর সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সংঘাতে Iran-এর পাল্টা হামলায় এসব ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে United States এবং Israel যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের এই কৌশলগত হামলায় অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এগুলোর বর্তমান অবস্থা এতটাই দুর্বল যে, তা এখন মার্কিন বাহিনীর জন্য সুবিধার চেয়ে ঝুঁকিই বেশি তৈরি করছে।
এর আগে The New York Times-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার পর এসব ঘাঁটির অনেকগুলোই প্রায় ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হয়ে পড়েছে। তবে এ ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
ওয়াশিংটনের Arab Center Washington DC-এর বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে Marc Lynch বলেন, গত এক মাসে ইরান কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের অবকাঠামোকে অকার্যকর করে দিয়েছে। তার মতে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, Bahrain-এ অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রায় ৯ হাজার সেনার এই ঘাঁটি বর্তমানে এতটাই অরক্ষিত যে, সেখানে নৌবহর পুনরায় স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কৌশল এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নির্ভর করেই এতদিন এই কৌশল পরিচালিত হচ্ছিল।
Saudi Arabia, United Arab Emirates, Kuwait, Qatar এবং Oman-এ অবস্থিত এসব ঘাঁটির প্রবেশাধিকার বর্তমানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পেন্টাগন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ বিষয়ে কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখছে।
এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে এসব দেশের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, বরং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক