দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই কর্মসূচি চালু করা হবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে তা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা খাত নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই মিড ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসার আগে পর্যাপ্ত খাবার পায় না।
এই পরিস্থিতিতে স্কুলে খাবারের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে একটি সিঙ্গেল কারিকুলামের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও ইবতেদায়ীসহ বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীরা যাতে সমান দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১২ বছর শিক্ষা শেষে সব মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যেন একই ধরনের মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জুন মাসের পর থেকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হবে এবং দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ভাষাগত দক্ষতা, গণিতের দক্ষতা এবং নৈতিক শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও সচেতন জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি জ্ঞান বাড়ানোর জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোচিংনির্ভর শিক্ষার প্রবণতা বেড়ে গেছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকার এই কোচিং সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করতে চায় এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে কোচিং নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার আরও বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া ক্লাস ওয়ানের পর ভর্তি লটারি পদ্ধতি চালু থাকার যৌক্তিকতা নিয়েও নীতিগত আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পথশিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম এবং রমজানের ছুটির বিষয়েও নীতিগত আলোচনা চলছে।
ভবিষ্যতে শিক্ষা ক্যালেন্ডারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এই আলোচনা সভায় শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
কসমিক ডেস্ক