হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা দান করাকে কেন্দ্র করে সিলেটে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন মহল এ অনুদানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
Description:
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম দায়িত্ব ছাড়ার আগে এই অর্থ মাজার তহবিলে জমা দেওয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
সম্প্রতি মাজারের ঐতিহাসিক দানবাক্স ও ডেক খুলে গণনা করার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটটি ডেক ও দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা নগদ অর্থ, কিছু স্বর্ণালংকার এবং সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এসব অর্থ মাজারের নামে নতুন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।
তবে একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে জমা দেওয়ার বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের দানে মাজারের তহবিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি তহবিলের অর্থ মাজারে প্রদান কতটা যুক্তিসঙ্গত, সে প্রশ্ন উঠেছে।
সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী এ ঘটনাকে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, মাজারের দানের অর্থের পরিমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর সেখানে সরকারি অর্থ দান করা একধরনের প্রতীকী ও বিতর্কিত পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সারওয়ার আলম আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং পুরোনো দানবাক্স ও ডেক সিলগালা করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর পরদিন দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়। একই দিন মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দান করেন তিনি।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা অধিক যৌক্তিক হতো। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে সারওয়ার আলম বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কসমিক ডেস্ক