এইচএসসি ও সমমানের রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল পরীক্ষার কয়েকটি প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের দাবি, প্রশ্নপত্রে কোনো ধরনের ভুল ছিল না। একই সঙ্গে পরীক্ষকদের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিস্তারিত নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকাশিত নির্দেশিকায় প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, নম্বর বণ্টনের ধরন এবং মূল্যায়নের নীতিমালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থী কোনো প্রশ্নের আংশিক সঠিক উত্তর দিলে তিনি সংশ্লিষ্ট অংশের জন্য আংশিক নম্বর পাবেন। তবে ভুল বা প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কহীন উত্তর দিলে কোনো নম্বর দেওয়া হবে না।
বোর্ডের কর্মকর্তারা আরও জানান, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—পরীক্ষার্থী যদি কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার অর্ধসমীকরণ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, সঠিক সূত্র লিখতে পারেন অথবা নির্দিষ্ট ধারণার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেন, তাহলে সেই অংশের জন্য প্রাপ্য নম্বর দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের (ঘ) অংশে উচ্চতর দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য ৪ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অংশে শুধু গাণিতিক সমাধান নয়, তার সঙ্গে যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার এইচএসসি রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে কয়েকটি প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ১, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর উদ্দীপকে ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি করেন কিছু পরীক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, এসব প্রশ্নের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপে পড়েছেন।
তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নে ভুল রয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। তাদের দাবি, কিছু কোচিং সেন্টারের মালিক এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছেন।
বোর্ডের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজবে কান না দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য ও নির্দেশনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক