জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার বর্তমান প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বংশাল থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামতের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, মাহির রহমান ছিলেন মূল হামলাকারী, বার্জিস শাবনাম বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং ফারদীন আহম্মেদ আয়লান সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা ভবনে ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গেলে জোবায়েদ হোসাইনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভবনের নিচতলায় হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে তিনতলার সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পরদিন জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় নয় মাস তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ছিল না; বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির—দুজনেরই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোবায়েদের কাছে থাকা অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এটি তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযোগপত্রে উল্লেখিত দাবি; বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষ।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু জানান, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশনের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা পর্যালোচনা করছেন। পরে এটি বিচারকের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগপত্রে থাকা ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এবং মাহির রহমানের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিসহ বিভিন্ন আলামত মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক