অ্যামোনিয়া শেষ, উৎপাদন বন্ধ দেশের একমাত্র ডিএপি কারখানায় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অ্যামোনিয়া শেষ, উৎপাদন বন্ধ দেশের একমাত্র ডিএপি কারখানায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 19, 2026 ইং
অ্যামোনিয়া শেষ, উৎপাদন বন্ধ দেশের একমাত্র ডিএপি কারখানায় ছবির ক্যাপশন:

অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হলেও নতুন করে সরবরাহ না আসায় কাঁচামাল পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান আলমগীর জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু নতুন সরবরাহ না আসায় তা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

এই কারখানাটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), যা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থা। দেশের কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় যৌগিক সার উৎপাদনে এই কারখানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এই ডিএপি কারখানায় দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন। মূলত নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ ডিএপি সার উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের চাহিদা পূরণে এটি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে আসছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতদিন মজুত কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। এতে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএপি সার কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ধান ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে এর ভূমিকা অপরিসীম। এই কারখানা বন্ধ থাকলে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলমান থাকায় এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সেচ ও চাষাবাদের সময় সারের চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অ্যামোনিয়া সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

সব মিলিয়ে, অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন দ্রুত কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা: আসিফ ম

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা: আসিফ ম